Breaking

21 April, 2020

কোরআন থেকে যে কারনে আমরা সফলতা পাই না

আল্লাহ তায়ালা প্রায় দেড় হাজার বছর পূর্বেই মানব জাতির হেদায়াতের জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে আল কোরআন পাঠিয়েছেন।যাতে শুধু মুসলমাদের নয় বরং দলমত নির্বিশেষে সমগ্র জাতির হেদায়াতের কথা বলা হয়েছে।কিন্তু আফসোস আমরা মুসলমান হয়েও এ কোরআন থেকে সফলতা পাই না আমাদের কিছু ভুলের জন্য।

আজকে আমরা শিখবো কিভাবে কোরআন থেকে সফলতা পাওয়া যায়।আমরা কোরআনের শুরুর দিকের অর্থাৎ সূরা বাকারার শুরুর কয়েকটা আয়াত নিয়ে আলোচনা করবো।

এ সেই কিতাব যাতে কোনই সন্দেহ নেই। পথ প্রদর্শনকারী পরহেযগারদের জন্য (বাকারা-২)

তাহলে আল্লাহ তায়ালা কোরআনের প্রথমেই বলে দিয়েছেন এতে কোন সন্দেহ নেই।যে ব্যক্তি মুমিন সে অবশ্যই এ কথা বিশ্বাস করে।বলা হয়েছে এ কোরআন পথপ্রদর্শক, কিন্তু এটি কাদের জন্য পথ প্রদর্শক?

কোরআন আপনার জন্য পথপ্রদর্শক হবে তখনই যখন আপনি পরহেযগার, মুত্তাকী বা ঈমানদার হতে পারবেন।কিন্তু সাধারনত আমাদের দেখা যায় আমরা কোরআনের কিছু বিষয় মানি আবার কিছু বিষয় মানি না। প্রথমত আমরা পূর্ণঈমানদার বা পরহেযগার হতে পারি নি।

ঈমানের তিনটি চিহ্ন হলোঃ
১। অন্তরে বিশ্বাস,
২। মুখে প্রকাশ,

৩। অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দিয়ে আমল করা, অর্থাৎ কর্মের মাধ্যমে প্রমাণ করা।


 ইসলামের এরকম অনেক বিধান আছে যা আমরা অন্তরে বিশ্বাস করি, মুখে স্বীকার করি কিন্তু কাজের মাধ্যমে প্রমান করি না।এতে আমাদের মধ্যে ঈমানের ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।তাহলে প্রথমত আমাদেরকে পূর্ণঈমানদার হতে হবে।


যারা অদেখা বিষয়ের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে এবং নামায প্রতিষ্ঠা করে। আর আমি তাদেরকে যে রুযী দান করেছি তা থেকে ব্যয় করে (বাকারা-৩)


এরপর পরই আল্লাহ বলছেন অদেখা বিষয়ের উপর বিশ্বাস আনতে, তাহলে এখানে অদেখা বিষয় কি?
অদেখা বিষয় গুলো হচ্ছে যা আমাদের দৃষ্টির আয়ত্বে নেই। আল্লাহ,আল্লাহর ফেরেশতা গণ,জান্নাত,জাহান্নাম,হাশর,মি্যান ইত্যাদি । ঈমান আনার পর আল্লাহর অস্তিত্বে বিশ্বাস আনতে হবে।যা আমাদের অনেক মুসলাম ভাইদেরই আছে ইনশা আল্লাহ।

এর পরই বলা হচ্ছে নামাজ প্রতিষ্ঠা করার কথা।এখানে একটা কথা ভালোভাবে মনে রাখবেন আয়াতের এ অংশে বলা হচ্ছে না তোমরা শুধু নামাজ পড় বরং বলা হচ্ছে তোমরা নামাজ প্রতিষ্ঠা করো।
 তাহলে আমরা শুধুই নামায পড়বো না আমাদের চারপাশে যে সকল ভাই আছেন নামাজ পরে না তাদের কে নামাজের জন্য দাওয়াত দেব।আমাদের দায়িত্ব নামাজ প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্যে দাওয়াত দেওয়া হেদায়াতের মালিকতো আল্লাহই।


‘‘আপনি যাকে পছন্দ করেন, তাকে হেদায়াত করতে পারবেন না। কিন্তু আল্লাহ যাকে চান তাকে হেদায়াত করেন।’’ (আল-কাসাস: ৫৬)


 এর পরই বলা হচ্ছে হালাল খাবারের কথা, আল্লাহ তায়ালা এ অংশে বলেন, [ আর আমি তাদেরকে যে রুযী দান করেছি তা থেকে ব্যয় করে ] আল্লাহ তায়ালা কাউকে হারাম রিজিক দেন না।যে হারাম রুযি অর্জন করে সেটা তারই কামাই।তাহলে আমাদের কোন অর্থ সম্পদ অর্জনের আগে ভাবতে হবে সম্পদটা কি হালাল নাকি হারাম? যদি হারাম হয় গ্রহন করবো না হালাল হলে গ্রহন করবো।হালাল হারাম সম্পর্কে আল্লাহর কঠিন বিধান রয়েছে,

"হে মানুষ! পৃথিবীতে হালাল ও তাইয়্যেব যা রয়েছে তা থেকে আহার কর। আর শয়তানের পদাংক অনুসরণ করো না, নি:সন্দেহে সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।"(বাকারা-১৬৮)

 "তোমরা অন্যায়ভাবে একে অপরের সম্পদ ভোগ করো না। এবং জনগণের সম্পদের কিয়দংশ জেনে-শুনে পাপ পন্থায় আত্নসাৎ করার উদ্দেশে শাসন কতৃপক্ষের হাতেও তুলে দিও না।" (বাকারা-১৮৮)

 তাহলে আমাদের অবশ্যই হারাম বর্জন করতে হবে যদি আমরা মুত্তাকী হতে চাই।

এবং যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে সেসব বিষয়ের উপর যা কিছু তোমার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে এবং সেসব বিষয়ের উপর যা তোমার পূর্ববর্তীদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে। আর আখেরাতকে যারা নিশ্চিত বলে বিশ্বাস করে।(বাকারা-৪)

আমাদের উপর অবতীর্ণ হয়েছে কোরআন এবং আমাদের পূর্ববর্তীদের উপর অবতীর্ণ হয়েছে,
১. তাওরাত- হযরত মুসা (আ)।
২. যাবুর- হযরত দাউদ (আ)।
৩. ইনজিল- হযরত ঈসা (আ)।


 আমাদের দিক নির্দেশনা দেবে কোরআন তার পরও আমরা পূর্বের কিতাব গুলোর উপর বিশ্বাস স্থাপন করবো।
[ আর আখেরাতকে যারা নিশ্চিত বলে বিশ্বাস করে।]

অর্থাৎ মৃত্যুর পরবর্তী জীবনেও বিশ্বাস আনতে হবে।

তারাই নিজেদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে সুপথ প্রাপ্ত, আর তারাই যথার্থ সফলকাম।(বাকারা-৫)

তাহলে আমরা যদি কোরআনের এ বিষয় গুলো মানি তাহলেই কোরআন হবে আমাদের সফলতার চাবি কাঠি।

১।অদেখা বিষয়ের উপর বিশ্বাস স্থাপন করা,
২।নামায প্রতিষ্ঠা করা,
৩।আল্লাহ যে রুযী দান করেছে তা থেকে ব্যয় করা,
৪।কোরআন ও পূর্বের নবীদের কিতাব সমূহে বিশ্বাস করা,
৫।আখিরাতে অর্থাৎ পরকালে বিশ্বাস করা।

আল্লাহ আমাদেরকে এ বিশ্বাস গুলো অন্তরে স্থাপন করার শক্তি দান করুন।

(যতজন ভাই শেয়ার করবেন আমি মনে করব ততজনকে আমি একটু হলেও উপকার করতে পেরেছি)



1 comment:

Total Pageviews