Breaking

01 November, 2019

৭টি গুনাহ মানুষের ধ্বংস টেনে আনে

১/ আল্লাহর সাথে শিরক করা।
  • “নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শরীক করা ক্ষমা করেন না। এটি ছাড়া অন্যান্য অপরাধ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন। এবং কেহ আল্লাহর শরীক্ করলে সে এক মহাপাপ আরোপ করে।” (সুরা, নিসা-৪:৪৮)
  • “নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তাঁর সাথে শরীক্ করা ক্ষমা করেন না। এটি ছাড়া অন্যান্য অপরাধ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন। এবং কেহ আল্লাহর শরীক্ করলে ভীষণভাবে পথভ্রষ্ট হয়।” (সুরা, নিসা-৪:১১৬)
  • “হে বনী ইসরাইল! তোমরা আমার রব এবং তোমাদের রব আল্লাহর ইবাদত কর। কেউ আল্লাহর শরীক করলে আল্লাহ তার জন্য জান্নাত অবশ্যই হারাম করবেন এবং তার আবাস জাহান্নাম।” (সূরা, মায়েদা-৫:৭২)
  • “তোমার প্রতি এবং তোমার পূর্ববর্তীদের প্রতি অবশ্যই এই ওহী হয়েছে তুমি আল্লাহর সাথে শরীক্ করলে তোমার আমল নিষ্ফল হয়ে যাবে এবং অবশ্য তুমি হবে ক্ষতিগ্রস্থ।” (সূরা যুমার, ৩৯:৬৫)
  • “যে কেউ আল্লাহর শরীক করে সে যেন আকাশ থেকে পড়ল, কিংবা বায়ু তাকে উড়িয়ে নিয়ে এক দূরবর্তী স্থানে নিক্ষেপ করল।” (সূরা, হাজ্জ ২২:৩১)
  • “যারা আল্লাহর সাথে অপর ইলাহ বানিয়ে নিয়েছে, সুতরাং শীঘ্রই ওরা (মুশরিকরা) এর পরিনতি জানতে পারবে।” (সূরা, হিজর ১৫ঃ৯৬)
  • “হে আল্লাহর রাসুল সবচেয়ে বড় গোনাহ কোনটি?” রাসুল(সঃ) বললেন, “আল্লাহর সাথে শরীক করা, অথচ আল্লাহই তোমাকে সৃষ্টি করেছেন।” (সহীহ বুখারী, মুসলিম)

        
২/ যাদুটোনা করা।

  • ‘তারা বরং সেগুলো অনুসরণ করত, যা শয়তানরা সুলাইমানের রাজত্বের নামে মিথ্যা অপপ্রচার করত। সুলাইমান কোনোদিন কুফরী করেনি, বরং ওই শয়তানগুলোই কুফরী করেছিল। ওরা মানুষকে জাদু শিখিয়েছিল। বাবিল শহরে পাঠানো দুই ফেরেশতা হারুত এবং মারুতকে যা দিয়ে পাঠানো হয়েছিল, তা শিখিয়েছিল।’ (সূরা: আল-বাক্বারাহ, আয়াত ১০২)
  • প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যাদুকরের শাস্তি হলো তরবারি দিয়ে হত্যা করা’ (তিরমিযী)

৩/ অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যা করা।

  • যে কেউ প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ অথবা পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করা ছাড়া কাউকে হত্যা করে সে যেন সব মানুষকেই হত্যা করল।’ সূরা মায়েদা : ৩২।
  • ‘এবং যে কারও জীবন রক্ষা করে, সে যেন সবার জীবন রক্ষা করে।’ সূরা মায়েদা : ৩২।
  • যে ব্যক্তি স্বেচ্ছাক্রমে মুসলমানকে হত্যা করে, তার শাস্তি জাহান্নাম, তাতেই সে চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তার প্রতি ক্রুদ্ধ হয়েছেন, তাকে অভিসম্পাত করেছেন এবং তার জন্য ভীষণ শাস্তি প্রস্তুত রেখেছেন।’ সূরা নিসা : ৯৩।
  • রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘খাঁটি মুসলমান হচ্ছে সে, যার হাত ও মুখ থেকে অন্য মুসলমান নিরাপদ থাকে।’ আরেক হাদিসে এসেছে, ‘প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অন্য মুসলমানের জীবন, সম্পদ ও সম্মানে অন্যায় আঘাত করা হারাম।’ মুসলিম।

৪/ সুদের লেনদেন করা।

  • “যারা সুদ খায় তারা কিয়ামতের দিন (কবর থেকে) ঐ ব্যক্তির ন্যায় ওঠবে যাকে শয়তান আছর করে মাতাল করে দিয়েছে। এ ধরনের শাস্তির কারণ এই যে, সুদখোর লোকেরা বলত, বেচা-কেনাতো সুদেরই মতো। অথচ আল্লাহ তা’আলা বেচা কেনাকে হালাল করেছেন আর সুদরকে করেছেন হারাম। সূরা আল বাক্বারাহ ২: ১৭৫।
  • হজরত জাবির (রা.) সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুল (সা.) সুদ গ্রহীতা, দাতা ও সুদি কারবারের লেখক এবং সুদি লেনদেনের সাক্ষী— সবার ওপর লানত করেছেন। (মুসলিম, হাদিস ৪১৩৮)।
  • আল্লাহতায়ালা সুদকে ধ্বংস করে দেন এবং দান-সাদকাকে বৃদ্ধি করে দেন। আল্লাহতায়ালা কোনো অকৃতজ্ঞ পাপীকে ভালোবাসেন না। (সুরা বাকারা, আয়াত ২৭৬)।
  • ‘আর তোমরা যে সুদ দিয়ে থাক, মানুষের সম্পদে বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য তা মূলত আল্লাহর কাছে বৃদ্ধি পায় না। আর তোমরা যে জাকাত দিয়ে থাক আল্লাহর সন্তুষ্টির কামনা করে (তা-ই বৃদ্ধি পায়) এবং তারাই বহুগণ সম্পদপ্রাপ্ত। (সুরা রুম, আয়াত ৩৯)

৫/ এতিমের মাল অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করা।

  • আর তোমরা পিতৃহীনকে তাদের ধন-সম্পদ সমর্পণ কর এবং উৎকৃষ্টের সঙ্গে নিকৃষ্ট বদল কর না, এবং তোমাদের সম্পদের সঙ্গে তাদের সম্পদকে মিশ্রিত করে গ্রাস কর না, নিশ্চয়ই তা মহাপাপ। (সূরা নিসা ২)
  • তোমরা পিতৃহীনদের প্রতি লক্ষ্য রাখবে, যে পর্যন্ত না তারা বিবাহযোগ্য হয়, এবং তাদের মধ্যে ভালোমন্দ বিচারের জ্ঞান দেখলে তাদের সম্পদ তাদের ফিরিয়ে দেবে। তারা বড় হয়ে যাবে বলে অন্যায়ভাবে তা তাড়াতাড়ি খেয়ে ফেল না। যে অভাবমুক্ত সে যেন যা অবৈধ তা থেকে নিবৃত্ত থাকে এবং যে অভাবী সে যেন সঙ্গত পরিমাণে ভোগ করে। অতঃপর তোমরা যখন তাদের সম্পদ সমর্পণ করবে তখন সাক্ষী রেখ। আর হিসাব গ্রহণে আল্লাহই যথেষ্ট। (সূরা নিসা ৬)
  • আর (পিতৃহীনদের সম্পর্কে) মানুষের ভয় করা উচিত, যদি তারা পেছনে অসহায় সন্তান ছেড়ে যেত (তাহলে) তারাও তাদের সম্বন্ধে উদ্বিগ্ন হতো। অতএব লোকের উচিত (এতিম-অনাথ সম্পর্কে) আল্লাহকে ভয় করা এবং ন্যায়সঙ্গত কথা বলা। নিশ্চয় যারা পিতৃহীনদের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করে, তারা তাদের উদরে অগ্নি ভক্ষণ করে। আর তারা জ্বলন্ত আগুনে প্রবেশ করবে। (সূরা নিসা ৯-১০)। 

৬/ জিহাদ থেকে পলায়ন করা।


  • আর যে ব্যক্তি লড়াইয়ের ময়দান হতে পিছু হটে যাবে সে আল্লাহর গযব সাথে নিয়ে প্রত্যাবর্তন করবে অবশ্য যে লড়াইয়ের কৌশল পরিবর্তন করতে কিংবা নিজ সৈন্যদের নিকট স্থান নিতে আসে সে ব্যতীত। (আনফাল:১৬)
  • আল্লাহ পাক এখন তোমাদের উপর ভার লাগব করে দিয়েছেন এবং তিনি জানেন, তোমাদের মধ্যে কিছু দুর্বল লোক রয়েছে। কাজেই তোমাদের মধ্যে যদি দৃঢ় মনের একশ লোক থাকে, তবে তোমরা দুইশ জনের উপর জয়ী হবে। আর যদি তোমরা এক হাজার হও, তবে আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী দুই হাজারের উপর বিজয়ী হবে। বস্তুত আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে রয়েছেন।
হযরত ইবনে আব্বাস রা বলেন,
 ان يكن منكم عشرون صابرون يغلبوا مائتين .
যদি তোমাদের মধ্যে বিশ জন ধৈর্যশীল ব্যক্তি থাকে, তবে তারা দু'শ জনের উপর বিজয়ী হবে।

৭/ স্বতী নারীকে ব্যাভিচারের অপবাদ দেয়া।

 'যারা সতী-সাধ্বী, নিরীহ মুমিন নারীদের বিরুদ্ধে অপবাদ আরোপ করে, তারা ইহলোক ও পরলোকে অভিশপ্ত এবং তাদের জন্য রয়েছে গুরুতর শাস্তি। (সূরা আননূর-২৩)
যারা সতী- সাধ্বী নারীর প্রতি অপবাদ আরোপ করে অতঃপর স্বপক্ষে চার জন পুরুষ সাক্ষী উপস্থিত করে না, তাদেরকে আশিটি বেত্রাঘাত করবে (সুরা নূর : ৪)

আল্লাহ তায়ালা আমাদের এসকল পাপ কাজ থেকে রক্ষা করুন।

No comments:

Post a Comment

Total Pageviews