Breaking

23 April, 2020

আপনি কি জানেন গরুর দুধ তৈরি হয় কিভাবে? কোরআন কি বলেছে?

মানুষ প্রথমে ভাবতো স্তনের নিকটে সাদা ফ্যাট থেকে দুধ আসে। 
তবে আজ এটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। গরু তৃণভোজী প্রাণী। তারা জীবিকার জন্য ঘাস খেয়ে থাকে।ঘাসকে দুধে পরিণত করার জন্য গরুগুলির মধ্যে সবচেয়ে অস্বাভাবিক ব্যবস্থা রয়েছে। তাদের একটি নয়, চারটি পাকস্থলী রয়েছে - যার প্রত্যেকে একটি বিশেষ কার্য সম্পাদন করে।
চিত্রঃ১
রুমেনঃ গরু যখন ঘাস খায় তখন তারা এটিকে অর্ধেক চিবিয়ে গিলে পেলে এবং এটি তাদের প্রথম পাকস্থলীতে পানির সাথে মিশে যায়, যার নাম রুমেন। এখানেই হজম প্রক্রিয়া শুরু হয়।এরপর এটি যায় রেটিকুলামে। 

 রেটিকুলামঃ রেটিকুলামে ঘাসের ছোট ছোট অংশগুলোকে 'চুডস' বলা হয়। এরপরে প্রতিটি 'চুডস' মুখে নিয়ে আসে। যেখানে গরু প্রায় ১ মিনিটের জন্য ৪০ থেকে ৬০ বার এটি চিবাতে শুরু করে।যাকে আমরা বলি জাবর কাটা। 

ওমাসামঃ চিবানো 'চুডুস' তৃতীয় পাকস্থলীতে ওমাসামে পৌঁছায়, যেখানে এটি জল হ্রাস করে এবং 'চুডুস' টি আরো চুর্ন চুর্ন হয়। 

আবোমাসামঃ এরপরে ঘাসটি চতুর্থ পাকস্থলীতে চলে যায়, তাকে অ্যাবোমাসাম বলা হয়। যেখানে এটি হজম হয়। অবশেষে এটি অন্ত্রগুলিতে পৌঁছায়। উপরের এ প্রক্রিয়াগুলার মাধ্যমে এটি বাহক(যেগুলার মাধ্যমে খাবারটি অন্ত্রে এসেছে) থেকে আলাদা হয়ে যায়।এ পর্যায়ে চারটি বাহক বা পাকস্থলীর কার্যকরিতা শেষ। এটি এখন স্রেফ আবর্জনা। এই আবর্জনা দেহ থেকে বেরিয়ে যায় বর্জ্য হিসেবে।
চিত্রঃ২
 এরপর কাজ শুরু করে দেহের আভ্যন্তরীন বাহন ‘রক্ত’ । রক্তের কোষগুলোয় প্রোটিন বহন করার জন্য কোটি কোটি প্রকোষ্ঠ আছে। প্রোটিনগুলো এসব প্রকোষ্ঠে আরোহন করে প্রথমে হৃৎপিণ্ডে পৌঁছায়। সেখান থেকে কিছুটা অক্সিজেন গ্রহণ করে রক্তে আরোহন করে দুধ উৎপাদন যন্ত্র ’স্তনগ্রন্থিতে’ পৌঁছে যায়। স্তনগ্রন্থি রক্ত নামের বাহনটি থেকে তার দরকারি সব প্রোটিন নিজের কাছে রেখে দেয়। এদিকে রক্তের যাতায়াত (প্রবাহ) থামে না। অনবরত সে প্রোটিন আনা নেয়া করতে থাকে প্রাণীটির মৃত্যু পর্যন্ত।
 
চিত্রঃ৩

 দুধ তৈরির প্রোটিনগুলো স্তনগ্রন্থিতে পৌঁছায় দুটি পদ্ধতির মাধ্যমে। প্রথম পদ্ধতি যার শেষ পরিণতি জৈবিক বর্জ্য বা মল। দ্বিতীয় পদ্ধতি হল রক্ত। প্রথমবার দুধের উপাদান বর্জ্যের উপাদান থেকে পৃথক হয়ে রক্তে মিশ্রিত হয়েছে। দ্বিতীয়বার রক্ত থেকে পৃথক হয়ে স্তনগ্রন্থীতে পৌঁছিয়েছে। দেখা গেল বর্জ্য আর রক্তের মধ্যে দিয়েই দুধের উপাদানগুলো দুধে পরিণত হয়েছে। 

আল্লাহ তায়ালা পশুর হজম হওয়া খাবার ও রক্ত থেকে মানুষের জন্য উৎকৃষ্ট খাদ্য দুধের ব্যবস্থা করেছেন। আল্লাহর কি কুদরত! এই দুধে পশুর খাদ্য বা পশুর রক্তের কোন রঙ বা গন্ধ পর্যন্ত নেই। গৃহপালিত পশু প্রকৃতিতে ছড়িয়ে থাকা সবুজ ঘাস ও তরুলতা খাবার হিসেবে গ্রহণ করে মানুষকে সাদা ও বিশুদ্ধ দুধ সরবরাহ করছে। এতে অবশ্যই মানুষের চিন্তার খোরাক রয়েছে। 

কোরআনে আল্লাহ তায়ালা এ প্রক্রিয়াকে উল্লেখ করেছেন সূরা আন্ নাহল এর ৬৬ নাম্বার(১৬.৬৬) আয়াতে।যেখানে আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ

 وَ اِنَّ لَکُمۡ فِی الۡاَنۡعَامِ لَعِبۡرَۃً ؕ نُسۡقِیۡکُمۡ مِّمَّا فِیۡ بُطُوۡنِہٖ مِنۡۢ بَیۡنِ فَرۡثٍ وَّ دَمٍ لَّبَنًا خَالِصًا سَآئِغًا لِّلشّٰرِبِیۡنَ ﴿۶۶

অর্থঃআর নিশ্চয় চতুষ্পদ জন্তুতে রয়েছে তোমাদের জন্য শিক্ষা। তার পেটের ভেতরের গোবর ও রক্তের মধ্যখান থেকে তোমাদেরকে আমি দুধ পান করাই, যা খাঁটি এবং পানকারীদের জন্য স্বাচ্ছ্যন্দকর।

 তাফসিরঃ গোবর ও রক্তের মাঝখান দিয়ে পরিস্কার দুধ বের করা সম্পর্কে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেনঃ জন্তুর ভক্ষিত ঘাস তার পাকস্থলীতে একত্রিত হলে পাকস্থলী তা সিদ্ধ করে। পাকস্থলীর এই ক্রিয়ার ফলে খাদ্যের বিষ্ঠা নীচে বসে যায় এবং দুধ উপরে থেকে যায়। দুধের উপরে থাকে রক্ত। এরপর যকৃত এই তিন প্রকার বস্তুকে পৃথকভাবে তাদের স্থানে ভাগ করে দেয়, রক্ত পৃথক করে রগের মধ্যে চালায় এবং দুধ পৃথক করে জন্তুর স্তনে পৌঁছে দেয়। এখন পাকস্থলীতে শুধু বিষ্ঠা থেকে যায়, যা গোবর হয়ে বের হয়ে আসে। [ইবন কাসীর] 

কিভাবে একজন ব্যক্তি ১৪০০বছর পূর্বে এ কথা বলতে পারেন, যিনি কিনা লিখতে বা পড়তে জানতেন না?

No comments:

Post a Comment

Total Pageviews