Breaking

25 April, 2020

পূর্ণচাঁদ বা পূর্ণিমা সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন কোরআন ও বিজ্ঞানের আলোকে

 এ সম্পর্কে জানার জন্য আমাদের অবশ্যই অমাবস্যা ও পূর্ণিমা সম্পর্কে জানতে হবে।
কিভাবে অমাবস্যা হয়? কিভাবে পূর্ণিমা হয়?


এটি বুঝতে গেলে আমাদেরকে পৃথিবীর সাথে চাঁদের অবস্থান কোণ এর মাধ্যমে বুঝতে হবে।সৌরজগতে সবার প্রথমে রয়েছে সূর্য। এরপর পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ চাঁদের অবস্থান। এরপর অবস্থান পৃথিবীর।


 যদি আমরা এই তিনটি কে সারিবদ্ধ ভাবে সাজাই তাহলে দেখবো প্রথমে রয়েছে সূর্য,তারপরে চাঁদ, তারপরে পৃথিবী। যখন চাঁদ ও পৃথিবী সূর্যের সাথে ০° কোণে অবস্থান করে, তখন চাঁদের সূর্যের পাশের অংশটি আলোকিত থাকলেও পৃথিবী পাশের অংশটি তখন অন্ধকারাচ্ছন্ন থাকে যার ফলে পৃথিবী থেকে আমরা চাঁদ কে দেখতে পাই না আর এটি হলো আমাবস্য।


এরপর চাঁদ যখন পৃথিবীর সাথে 45° ডিগ্রি কোণে অবস্থান করে তখন আমরা পৃথিবী থেকে ডান দিকে অথবা বাম দিকে বাঁকা চাঁদ লক্ষ্য করি।


এরপর এটি যখন ঘুরতে ঘুরতে 90° কোণে অবস্থান করে তখন আমরা পৃথিবী থেকে অর্ধ চাঁদ লক্ষ করি। এরপর এটি যখন আবার ঘুরতে ঘুরতে 135° কোণে অবস্থান করে তখন আমরা চাঁদের প্রায় বেশিরভাগ অংশই দেখতে পারি। এরপর যখন এটি 180° ডিগ্রি কোণে অবস্থান করে তখন আমরা সম্পূর্ণ চাঁদকে দেখতে পারি যাকে আমরা পূর্ণিমা বলে থাকি।


কেউ হয়তো ভাবতে পারেন যখন এটি 180° ডিগ্রি কোণে অবস্থান করে তখন তো চাঁদ পৃথিবীর কারণে সূর্য থেকে ঢাকা পড়ে যায়। তা সম্ভব হতো, তখনই যখন সূর্য পৃথিবী থেকে ছোট হতো। কিন্তু আমরা জানি সূর্য পৃথিবী থেকে ১৩ লক্ষ গুণ বড়। যার ফলে সূর্যের আলো পৃথিবীর উপর দিয়ে গিয়ে চাঁদের উপর পড়ে এবং তখন আমরা পৃথিবী থেকে পূর্ণ চাঁদটিকে লক্ষ করি।


আমরা এই পূর্ণ চাঁদকে দেখতে হলে, রাতের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। কেননা পৃথিবীর যে প্রান্তে সূর্যের আলো পড়ে(সেই প্রান্তে দিন) তার বিপরীত প্রান্তে(রাত) পূর্ণ চাঁদ অবস্থান করে। যার ফলে রাতের প্রান্তের লোকেরা চাঁদকে দেখতে পারে। কিন্তু সূর্যের আলোকিত প্রান্ত থেকে চাঁদকে দেখা সম্ভব হয় না। তাদেরকে পূর্ণ চাঁদ দেখার জন্য রাতের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। সুতরাং বুঝা গেল পূর্ণ চাঁদ দেখার জন্য মানুষকে চাঁদের মুখোমুখি পৃথিবীর পাশে থাকা দরকার। এই মুহুর্তে কেবলমাত্র পৃথিবীর রাতের দিকটি চাঁদের মুখোমুখি হবে। অন্য দিনের অংশটি সূর্যের মুখোমুখি হবে। তবে সেখানকার লোকেরা পূর্ণিমা প্রত্যক্ষ করতে পারবেন না। চাঁদের মুখোমুখি হওয়া অবধি তাদের পৃথিবী ঘোরার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। এই কারণেই দিনের বেলা পূর্ণ চাঁদ দেখা যায় না।এটি বিজ্ঞান জানতে পেরেছে কিছুদিন পূর্বে।কিন্তু কোরআনে ১৪০০ বছর পূর্বেই এটি উল্লেখ করা হয়েছে।

84:16
فَلَاۤ اُقۡسِمُ بِالشَّفَقِ ﴿ۙ۱۶﴾
অতঃপর আমি কসম করছি পশ্চিম আকাশের লালিমার

ব্যাখ্যাঃ সুরা ইনশিক্বাক্ব এর ১৬ নাম্বার আয়াতে যে শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে তা হলো (بِالشَّفَقِ) যার অর্থ পশ্চিম দিগন্তের সন্ধ্যার লালিমার।এটি সন্ধ্যার পর অর্থাৎ রাতের শুরুতে দেখা যায়।

84:17
وَ الَّیۡلِ وَ مَا وَسَقَ ﴿ۙ۱۷﴾
আর রাতের কসম এবং রাত যা কিছুর সমাবেশ ঘটায় তার।

ব্যাখ্যাঃ সুরা ইনশিক্বাক্ব এর ১৭ নাম্বার আয়াতে যে শব্দটা ব্যবহার করা হয়েছে তা হলো ( وَسَقَ) যার অর্থ সমাবেশ ঘটায়। রাতে এমন এমন জিনিস এর সমাবেশ ঘটে যা দিনে হয় না।

84:18
وَ الۡقَمَرِ اِذَا اتَّسَقَ ﴿ۙ۱۸﴾
আর চাঁদের কসম, যখন তা পরিপূর্ণ হয়

ব্যাখ্যাঃ সুরা ইনশিক্বাক্ব এর ১৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন আর চাঁদের কসম যখন তা পরিপূর্ণ হয় এখানে পরিপূর্ণ চাঁদের কথা বলা হয়েছে আর আমরা আগেই জেনেছি পরিপূর্ণ চাঁদ শুধুমাত্র রাতের বেলায় দেখা সম্ভব এখানে আল্লাহ তাআলা শুধুমাত্র চাঁদ না বলে পরিপূর্ণ চাঁদের কথা বলেছেন।

এখানে প্রথমেই (১৬ নাম্বার আয়াতে)আল্লাহ তায়ালা শপথ করছেন লালিমার, এরপর(১৭ নাম্বার আয়াতে) আল্লাহ শপথ নিচ্ছেন আলোহিন কালোরাতের যা ঢাকা পড়ে গেছে, শেষে (১৮ নাম্বার আয়াতে)আল্লাহ শপথ করছেন পূর্ণ চাঁদের।এখানে লক্ষ্যনীয় ব্যাপার হলো আল্লাহ এখানে যে ৩টি জিনিসের উল্লেখ করেছেন সেগুলো একটা নির্দিষ্ট সময়ের।যা হলো রাতযেই রাতের কথা মাথায় আসলে আমাদের মনে পড়ে অন্ধকারের কথা।কিন্তু আল্লাহ আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছেন এই রাত সবসময় এক রকম থাকে নাহ।কখনো এই রাত হয় ঘুটঘুটে অন্ধকার, কখনো হয় আবছা আলো যেটা দেখা যায় লালিমার সময়, আবার কখনো হয় আলোকিত রাত যা দেখা যায় পূর্ণ চাঁদের(পূর্ণিমার) রাত্রে।

১৪০০ পূর্বে এমন একজন ব্যক্তি এ কথাটি বলেছেন যিনি লিখতে বা পড়তে জানতেন না। তবুও অবিশ্বাসীরা বিশ্বাস আনবে না যে এটি আল্লাহর বাণী।

 (যতজন ভাই/বোন শেয়ার করবেন আমি মনে করবো ততজনকে একটু হলেও সাহায্য করতে পেরেছি)

No comments:

Post a Comment

Total Pageviews